যদুনাথপুর এলাকায় গত ১২/১২/১৯৭৫ খ্রি: তারিখে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে জনসাধারণকে নিয়ে এক বিশেষ জরুরী অধিবেশনের আহব্বান করা হয়। উক্ত অধিবেশনের প্রারম্ভেই যুব সম্প্রদায়ের ভিতরে মৌঃ মোঃ ইদ্রিস আলী, মোঃ হানিফ উদ্দিন, মোঃ আঃ রশিদ, মোঃ আনিছুর রহমান, শ্রীযুক্ত বাবু হরেকৃষ্ণ সাহা ও অন্যান্য শিক্ষানুরাগীদের পূন: পূন: প্রস্তাবে উপস্থিত কল্যাণকর জনসাধারণের সমর্থনে মৌঃ আলহাজ নুরুল ইসলাম সাহেবকে সভাপতির আসনে উপবিষ্ট করে কার্য্য ও আলোচনা আরম্ভ করেন।
গত ১২/১২/১৯৭৫ খ্রি: তারিখের সভায় প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো গ্রামীন জনসাধারণের ছেলে মেয়েদের সুশিক্ষার জন্য কোন উচ্চ বিদ্যালয় এতদ্বস্থলে নেই বলে ছেলে-মেয়েরা সুশিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না। তজ্জন্য এখানকার জনসাধারণ ও তাদের ছেলে-মেয়েরা অশিক্ষার অন্ধকারে কালাতিপাত করতেছে। প্রাইমারী স্কুল ও মক্তব পাশ করিয়ে লেখাপড়া সমাপ্ত রাখা হয়। তাদের ভাগ্যে আর কোন উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ সম্ভব হয়ে উঠে না। মোঃ হাবিবুর রহমান সাহেব প্রস্তাব করেন যে, টাঙ্গাইল জেলার অন্তর্গত বর্তমান ধনবাড়ী উপজেলাধীন যদুনাথপুর ইউনিয়নের, যদুনাথপুর মৌজায় একটি উচ্চ বিদ্যালয় গড়ে উঠুক। যুব সম্প্রদায় সফি উদ্দিন আহমেদ, মোঃ হাবিবুর রহমান, শ্রী হরেকৃষ্ণ সাহা, শ্রী নিতাই চন্দ্র কর ও প্রবীন স্থানীয় মাতাব্বর আলহাজ ইজ্জত আলী মুন্সি, মোঃ মেহের আলী সরকার ও শ্রীযুক্ত বাবু দেবেন্দ্র চন্দ্র কর সহ আরও অন্যান্য শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এখানে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। শ্রীযুক্ত বাবু সুধন্য কুমার সাহা বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য সর্ব প্রথম কিছু জায়গা জমি দান করেন। এই ভাবে ০৪/০১/১৯৭৬ খ্রি: যদুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ করেন এবং ০১/০১/১৯৭৬ খ্রি: হতে নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি লাভ করে। বিদ্যালয়টি প্রথমে যদুনাথপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে স্থাপিত হয়। কালক্রমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং প্রতিষ্ঠানের সামনে খেলার মাঠ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তরের প্রয়োজন দেখা দেয়। এমতাবস্থায়, এলাকার সুধিজন ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ এবং কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের সুচিন্তিত মতামতের ভিত্তিতে বিদ্যালয়টি বংশাই নদীর পশ্চিম পাশে যদুনাথপুর মোড় এর উত্তর পাশে স্থানাস্তরের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
বিদ্যালয়টি স্থানান্তরের নিমিত্তে জমির প্রয়োজন দেখা দিলে শ্রী দেবেন্দ্র চন্দ্র কর প্রথম জমি বিক্রি করে ২০,০০০/- টাকা দান করেন এবং পরবর্তীতে আরও ০৮ শতাংশ জমি হস্তান্তর করেন। অত:পর আলহাজ ইজ্জত আলী মুন্সি, মোঃ নওশের আলী মন্ডল, মোঃ হানিফ উদ্দিন সরকার, মোঃ মেহের আলী সরকার, শ্রী রাস বিহারী সাহা, বাবু সুধন্য কুমার সাহা, শ্রী হরেকৃষ্ণ সাহা, আলহাজ ওয়াজ আলী, শ্রী শশী মোহন সাহা ও শ্রী অশ্বিনী কুমার সাহা সবাই বিদ্যালয়ের নামে জমি হস্তান্তর করেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নামে ২ একর ৯৮ শতাংশ জমি রয়েছে।
বিদ্যালয়টি ০১/০১/১৯৮০ খ্রি: হতে মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে পাঠদানের স্বীকৃত লাভ করে এবং ০১/০৬/১৯৮৪ খ্রি: প্রথম এমপিও ভুক্ত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ২৪ জন। শিক্ষকবৃন্দ অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পাঠদান করে থাকেন। যারফলে প্রতিষ্ঠানের আভ্যন্তরীন পরীক্ষা সহ পাবলিক পরীক্ষায় যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। মধুপুর গড়ের পাদদেশে অবস্থিত মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান শিক্ষার্থীদের নিয়ে যদুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি ধনবাড়ী উপজেলার ভিতরে অত্যন্ত সুনাম অর্জনের সাথে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে। বিদ্যালয় অঙ্গনটির চারপাশ গাছপালা বেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্যে ঘেরা। বিদ্যালয় ভবনের সামনে রয়েছে ফুলের বাগান যা বিদ্যালয়ের সৌর্ন্দয্যকে আরও বৃদ্ধি করেছে।
বিদ্যালয়টি নিবিড় পল্লী এলাকায় অবস্থিত হলেও গ্রামীন শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভুমিকা পালন করে আসছে।.....
বিস্তারিত